বি এন পিকে ঢাল বানিয়ে বরিশালে সন্ত্রাসী-রাজনীতির নতুন কাহিনি!
নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল নগরী কি আইনশৃঙ্খলার শহর, নাকি সন্ত্রাসীদের জন্য সেফ জোন,এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের ঠোঁটে। কারণ, পুলিশের হাতকড়ায় থাকা আসামি মাসুম হাওলাদার, যিনি ইতোমধ্যে সাংবাদিক পেটানো,দখলবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে এলাকাবাড়ি আতঙ্ক সৃষ্টি,সব ক্ষেত্রেই ‘বহুমুখী প্রতিভার’ পরিচয় দিয়েছেন, তিনি এবার পুলিশের হাতেই কামড় বসিয়ে পালিয়েছেন!
একসময় মাসুম আওয়ামীলীগ বনে গিয়েছিলো
হ্যাঁ,শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত দুইটার দিকে ভাটারখাল এলাকায়। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে গেলে শুরু হয় ‘বীরত্বের নতুন অধ্যায়’। পুলিশের ভাষায়,মাসুম তখন শুধু পালায়নি, বরং কামড় দিয়ে পালিয়েছে। মনে হচ্ছে, সন্ত্রাসী হওয়ার পাশাপাশি তিনি এখন মার্শাল আর্টের ‘ডগ স্টাইল’-এও দক্ষতা অর্জন করেছেন।
এই ‘কামড়-অধ্যায়ের’ পর বেশিক্ষণ লাগেনি বিশৃঙ্খলা ছড়াতে। ৬০–৭০ জন সন্ত্রাসী একসঙ্গে লাঠি-ইট নিয়ে হামলে পড়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর।এতে এসআই নাসিম হোসেন গুরুতর আহতসহ তিন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে।তবে চারজনকে গ্রেফতার করা গেছে,মাসুমের স্ত্রী রিমি বেগমসহ। ওসি মিজানুর রহমান জানালেন, “মামলা হয়েছে। বাকি আসামিরাও ধরা পড়বে।জনগণের প্রশ্ন,কবে? নাকি আবার কামড়ে খেয়ে পালাবে!
পেছনের কাহিনি-মাসুমদের ‘সাম্রাজ্য’আর ভাটারখালবাসীর আতঙ্কের দিনরাত!
মাসুম হাওলাদার শুধুই ছাত্রদল নেতা নন,তিনি বরিশালের ভাটার খালের অঘোষিত ‘কালো সম্রাট’।তার নাম শুনলেই ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে, মানুষ দরজা আটকে, আর সাংবাদিকরা ক্যামেরা ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলেন।
ভাটারখালের এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীর ওপর তার অন্যায় নির্যাতনই তার সাম্রাজ্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে। সরকারি খাসজমিতে ছোট্ট দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসার টেনে নেওয়া ওই ব্যবসায়ী হঠাৎই মাসুমের ‘বিচারসভায়’ হাজির হন। অভিযোগ? তুমি নাকি চুরির ব্যবসা করো,এমনই অজুহাত।
এরপর কি হলো জানেন?একদিনে চারবার কারেন্ট শক,৯৫ হাজার টাকা চাঁদা,দোকান খালি করতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম,আর ততক্ষণে শরীরে অসংখ্য আঘাত, মনে আতঙ্ক, এবং জীবিকা পথে তালা।
এ যেন দস্যু নয়, ভয়ংকর ‘মিনি-গুয়ানতানামো’!
স্থানীয়দের মতে, মাসুম ও তার ভাগিনা মিলে খালপাড়ের ফুটপাত থেকে খাসজমি পর্যন্ত দখল করে দোকান বসিয়ে দৈনিক চাঁদা তুলে। কেউ একটু বাঁকা চোখে তাকালেই,হয়রানি, অপবাদ, নির্যাতন, গুমের ভয়,সবই প্রস্তুত।
রাজনৈতিক পরিচয়?
পারলে কেউ অস্বীকার করুক!স্থানীয়রা বলছেন, মাসুমের বড় শক্তি হলো,সে একসময় বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মুজিবুর রহমান সরোয়ারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এখন? সরোয়ার নিজেই বলেছেন,মাসুম এখন আর আমার রাজনীতি করে না।উশৃঙ্খল হয়ে গেছে।
অর্থাৎ, শিষ্য ‘সন্ত্রাসী’ হয়ে গেছে,গুরু আর দায় নিতে চান না।জনগণের ভাষায়..রাজনীতি আর দখলবাজি,দুই হাতেই মাসুম সমান দক্ষ।”
সাংবাদিকদের ওপর আতঙ্ক…
মাসুমের বিষয়ে অনুসন্ধানে গেলে মানুষ মোবাইল নম্বর দিতে ভয় পায়। সাংবাদিকরা এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে,ওই দিকটা যাইয়েন না ভাই, ওরা খবর পাইলেই বিপদ!
বরিশালের মতো শান্ত শহরে এমন অবস্থা যেন ক্ষুদ্র রাজা’-দের অবাধ বেপরোয়া ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।এলাকাবাসীর ভাষায়,এটি শুধু অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্লাসিক মডেল।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়,এমন ভয়ংকর সন্ত্রাসী দিনের পর দিন এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় কীভাবে?কারা তাকে রক্ষা করে?কাদের ছাতার নিচে এই অপরাধ সাম্রাজ্য ফুলেফেঁপে ওঠে?
এখন বরিশালবাসীর দাবি.. কামড়ানো-ধাওয়া-পালানোর নাটক নয়, এবার আইনের কামড় মাসুমের গায়ে লাগুক!
জনগণ বলছে, মাসুম হাওলাদার নামের এই সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট বরিশালকে আতঙ্কে রেখেছে দীর্ঘদিন। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভাটারখাল তো বটেই,পুরো বরিশালই একদিন সন্ত্রাসীদের কলোনিতে পরিণত হবে।











